চুঙ্গাপুড়া

সিলেটের ঐতিহাসিক চুঙ্গা পুড়া “

চুঙ্গাপুড়া পিঠা বা চুঙ্গা পিঠা (সিলেটি : ꠌꠥꠋꠉꠣ ꠙꠤꠑꠣ) বাংলাদেশের সিলেট  অঞ্চলের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পিঠা।চুঙ্গাপিঠা তৈরির প্রধান উপকরণ ঢলু বাঁশ ও বিন্নি ধানের চাল (বিরইন ধানের চাল) হলেও বিন্নি চাল, দুধ, চিনি, নারিকেল, ঢলুবাঁশ   ও চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এই খাবারটি সিলেটের একটি নিজস্ব এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে সুপরিচিত।

বাংলাদেশে  এক সময় বাজারে মাছের মেলা বসতো। সেসব মেলা থেকে মাছ কিনে অথবা হাওর ও নদী  হতে বড় বড় মাছ ( রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, পাবদা, কই, মাগুর) ধরে নিয়ে এসে হাল্কা মসলা দিয়ে ভেজে (আঞ্চলিক ভাষায় মাছ বিরান) চুঙ্গাপুড়া পিঠা খাওয়া সিলেট অঞ্চলের একটি অন্যতম ঐতিহ্য ছিল।বাড়িতে মেহমান বা নতুন জামাইকে শেষ পাতে চুঙ্গাপুড়া পিঠা, মাছ  বিরান আর নারিকেলের ও কুমড়ার  মিঠা, বা রিসা পরিবেশন না করা যেন লজ্জার বিষয় ছিলো।

এক সময় সিলেটের পাহাড়ি আদিবাসীরা বাঁশ কেটে চুঙ্গা বানিয়ে এর ভেতর ভেজা চাল ভরে তৈরি করত এক ধরনের খাবার। ধীরে ধীরে এ খাবার পাহাড়িদের কাছ থেকে সিলেট বাসীদের কাছে চলে আসে। সময়ের পরিক্রমায় চুঙ্গা দিয়ে তৈরি করা এই খাবার এখন চুঙ্গা পিঠা নামে বহুল পরিচিত।

বড়লেখার শিক্ষাঙ্গনে ফিরেছে প্রাণ, শ্রেণিকক্ষে ফিরল শিক্ষক-শিক্ষার্থী

প্রতিদিনের সকালের মত আজকের সকালটা একরকম ছিল না। এদিন সকাল ৬টা থেকে মা-বাবার হাঁক-ডাক। সন্তানকে তৈরী করে স্কুলে পাঠানোর তাগিদ। সন্তানের চোখে-মুখে ঘুম। সেই ঘুম-চোখেই প্রস্তুত হয়ে আজহারুল ইসলাম মাশরাফি নাস্তা খেয়ে স্কুলে রওনা দেয়। গন্তব্য পঞ্চগ্রাম কেজি এন্ড চাইন্ড কেয়ার। রাস্তায় তার বন্ধু ইমনের সাথে দেখা। স্কুলে প্রবেশ করতেই সেই পুরোনো সব বন্ধু। ঘুম ছুটে চোখে ভর করে খুশির ঝিলিক। স্কুলের প্রবেশ পথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসরুমে গিয়ে বসা। তারপর শুরু পাঠদান।

৫৪৩ দিন পর রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) স্কুল খোলার প্রথম দিনে বড়লেখায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে গমন ও ক্লাসরুমে বসার চিত্র ছিল এমনই। সকালের শিফটে শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে প্রবেশ করেছে।

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গেল বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় প্রথম ধাপে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে আজ থেকে। শারীরিক উপস্থিতিতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগে থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। শ্রেণি কার্যক্রম প্রস্তুতি ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বরণ করতে সাজানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষ। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুইটি শ্রেণির পাঠদান অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী একটি রুটিনও প্রণয়ন করা হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, রোববার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিষয়টি না জেনে অনেক অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও স্কুলে চলে আসতে দেখা গেছে।

স্কুল খোলার প্রথম দিন বড়লেখার বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের আগমন উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। অনেক স্কুলেই শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়, স্কুল গেইট সাজানো হয় বেলুন দিয়ে।

উপজেলার সুজানগর ছিদ্দেক আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘সকালের শিফট ১০টা থেকে শুরু। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করানো হয়েছে।’

উপজেলার রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ইকবাল আহমদ জানান, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করিয়েছি। হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া, শরীরের তাপমাত্রা মাপা, শরীরে স্যানিটাইজ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিফটভিত্তিক আলাদাভাবে পাঠদান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো সন্তোষজনক।

এদিকে সকাল থেকেই স্কুলের সামনে অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। সন্তানকে বাসা থেকে বের করে স্কুল অবধি পৌঁছানো পর্যন্ত অভিভাবকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা লক্ষ্য করা গেছে। করোনা মহামারিতে সন্তানকে চোখে চোখে রেখে আজই বাসার বাইরে অন্য কোথাও রেখে যাওয়া। ইমদাদুল ইসলাম ইমনের অভিভাবক (মা) শুয়ারা বেগম বড়লেখা মডেল মাদ্রাসায় ছেলেকে দিতে এসে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। উৎকণ্ঠা নিয়েই এ প্রতিবেদকে জানালেন, ‘এ সময়ে ছেলেকে মাদ্রাসায় দিতে এসে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। বাসার বাইরে বের হলেই নিরব একটা ভয় কাজ করে নিজের মধ্যে।’

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজ খোলার পর উচ্চ মাধ্যমিক ২০২১ ও ২০২২ সালের মাধ্যমিক এবং এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার (পিইসিই) শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করবে। প্রথম থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন করে স-শরীরে ক্লাস করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে স্বাস্থ্য নির্দেশনার সাধারণ পরিচালন পদ্ধতি (এসওপি) পাঠিয়েছে। স্কুলে ক্লাস শুরু হওয়ার পর নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

এই নির্দেশনায় প্রধান শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীদের সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকা এবং শ্রেণীকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া, কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষক-শিক্ষিকা অথবা কর্মীর করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে বা আইসোলেশনে থাকতে পারবে এবং তাদেরকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হবে না। নির্দেশনায় শিক্ষকদের অনুরোধ করা হয়েছে, প্রতিটি ক্লাসের শুরুতে একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য। কোনো ছাত্র যেন ক্লাসের মাঝখানে বের হয়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়। এসওপি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে— শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের অসুস্থতা অনুভব করলে তা যেনো শিঘ্রই অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানায়। কোনো জরুরি কারণ ছাড়া শ্রেণীকক্ষের বাইরে না যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, পরিবারের কোনো সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেন তারা শিঘ্রই এই তথ্যটি প্রধান শিক্ষককে জানান। একইসঙ্গে, শিশুদের বাইরের খাবার খেতে নিরুৎসাহিত করার ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে এসওপিতে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গত বছরের ১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায় এবং প্রায় দেড় লাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

রাজনগরে একই বাড়ির ৩ জনের করোনায় মৃ’ত্যু

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজে’লার চাটুরা গ্রামে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে একই বাড়ির ৩ জন লোক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আজ রোববার (৮ আগষ্ট) রানা দেব (৫৫) করো’না আ’ক্রান্ত হয়ে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতা’লে শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন (দিব্যান লোকান স গচ্ছতু)। ইতোপূর্বে এই বাড়ির নমিতা দেব(৫৫) ও বরুন দেব (৭৫) একই রোগে মা’রা গেছেন।

মৌলভীবাজারের “শ্মশানবন্ধু সংঘের সমন্বয়কারী এডভোকেট রুদ্রজিত ঘোষ মিশু, সমন্বয়কারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শ্রী মহিম দে মধু ও সমাজকর্মী অমলেন্দু কুমা’র দাশ উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করে প্রয়াত রানা দেবের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

মৌলভীবাজার জে’লার শ্মশানবন্ধু টিম প্রধান শ্রী কালীপদ শীল,সদস্য- শ্রী সুমন চন্দ,শ্রী রামু শীল, শ্রী মিলন দে, পুরোহিত সদস্য শ্রী সুদীপ ভট্টাচার্য্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করছেন। মৃ’তের আত্মীয় ছাত্রলীগ নেতা নিকেশ দেব আন্তরিক সহযোগিতা করছেন।

মৌলভীবাজারে “শ্মশানবন্ধু সংঘ” সকল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সনাতন (হিন্দু) ধ’র্মীয় বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক ও সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনে পরিচালনা করছে। সনাতন (হিন্দু) ধ’র্মীয় কোন ব্যক্তি করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়ে বা করো’নার উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যুবরণ করলে মৌলভীবাজারে “শ্মশানবন্ধু সংঘ” সমন্বয়ক- অমলেন্দু কুমা’র দাশ, সমাজকর্মী, শাহমোস্তফা গার্ডেন সিটি,৩০৭,এম,সাইফুর রহমান রোড, মৌলভীবাজার। মোবাইল নং- ০১৭১১-০৬৯৩০৮ যোগাযোগ করতে পারেন।

এদুঃসময়ে আপনজন দূরে সরে থাকেন করো’না নামক ভ’য়াবহ দানব এর সংক্রমনের ভ’য়ে সেই সময় আপনাদের পাশে দাড়াবেন “শ্মশানবন্ধু সংঘ” এর নিবেদিত বন্ধুরা।

উল্লেখ্য কিছুদিন আগে ব্রাম্মণবাড়িয়া এক সনাতন(হিন্দু) ধ’র্মের ব্যক্তির করো’নায় মৃ’ত্যু হলে আত্মীয় ও প্রতিবেশিরা মৃ’তের সৎকারে এগিয়ে না আসলে শ্রীমঙ্গলের “শ্মশানবন্ধু সংঘ” এর নেতৃবৃন্দের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করেন।তখন শ্রীমঙ্গলের “শ্মশানবন্ধু সংঘ” এর নেতৃবৃন্দ আত্মীয়ের মাধ্যমে লা’শ শ্রীমঙ্গলে এনে সনাতন (হিন্দু) ধ’র্মীয় বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক ও সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটনের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

মোঃইবাদুর রহমান জাকির::

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বড়লেখা উপজেলাবাসী সহ দেশের ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেনি ও পেশার জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ৪নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক উন্নয়নের রুপকার, জননেতা আহমদ জুবায়ের লিটন।

তিনি বলেন ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ভুলে মানুষ সাম্য মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ঈদ ধনী গরীব নির্বিশেষে সকলের জীবনে আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মুসলমানদের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন লাভ করুক – এটাই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা। হাসি- খুশি ও ঈদের অনাবিল আনন্দে প্রতিটি মানুষের জীবন পূর্ণতায় ভরে উঠুক। বিশ্বের সকল মানুষের সূখ শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি ত্যাগ এর মহিমায় মহিমান্বিত হোক।প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের জনগনের উন্নতি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করছি। আসুন আমরা সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি অনুস্মরণের মাধ্যমে ঈদূল আযহা উদযাপন করি, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের প্রতি রহম বর্ষিত করুন।

বড়লেখা উপজেলা বাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা;চেয়ারম্যান সুয়েবের

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বড়লেখা উপজেলাবাসী সহ দেশ বিদেশের সাবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন
বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদ,।

(২০ জুলাই) সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে প্রতি বছর ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আত্মোৎসর্গ করাই কোরবানির প্রধান শিক্ষা। কোরবানির প্রকৃত রূপ হলো মনের গভীরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও তাকওয়া নিয়ে প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করা। আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে ব্রত হওয়াই কোরবানির মর্মবাণী। তাই পশু কোরবানির পাশাপাশি মনের পশু কোরবানি দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ব্রত হওয়াই আমাদের কর্তব্য।

শুভেচ্ছা বার্তায় সোয়েব আহমদ আরো বলেন, একটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে এবার পালন করতে হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ-উল আযহা। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির এই সময়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। ফলে সতর্কতার সঙ্গে এবং নানা বিধিনিষেধ মেনে পালন করতে হবে ঈদ।পরিশেষে তিনি সবার কল্যাণ কামনা করেন।

বড়লেখার শাহাবাজপুরে বন্ধ করে দেওয়া হলো কুরবানীর গরুর হাট

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজে’লায় সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন যথাযথভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে উপজে’লা প্রশাসন, পু’লিশ, সে’নাবাহিনী, বিজিবিসহ সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। এই করো’নাভাই’রাস সংক্রমণে আজকের দিও, বড়লেখায় ৭ জন রোগী সনাক্ত করা হয়েছে।

তারই ধারাবাহিকতায় আজ ৭ জুলাই বুধবার সকাল ০১টা থেকে দুপুর বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ বাজার ও বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত লায়লা নীরা’র নেতৃত্বে সরকার কর্তৃক আরোপিত বিধি-নিষেধ পালনে নিরবিচ্ছিন্ন টহল, ক্যাম্পেইন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

উক্ত অ’ভিযান চলাকালে শাহবাজপুর বাজারে পশুর হাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তত্বাবধানে শহরের উত্তর চৌমুহনী এলাকায় জনসচেতনতা মূলক প্রচারণা এবং মাস্ক বিতরণ করে।

এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত লায়লা নীরা বলেন আম’রা ধারাবাহিক ভাবে কঠোর লকডাউনের বাস্থবায়ন করতে সকলেই কাজ করে যাচ্ছি, এবং বড়লেখা উপজে’লার সকল জনসাধারণ আমাদের কে সাহায্য করে যাচ্ছে ও আমি আশা করবো লকডাউনের আওতার বাহিরে যেসব দোকানপাট খোলা তারা যেন বিকেল ৫ টার মধ্যে বন্ধ করে।

বড়লেখায় ভ্রাম‍্যমান ম‍্যাজিস্ট্রেট নুসরাত লায়লার ভয়ে পালাল মাছ বিক্রেতা।

সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারের বড়লেখায়ও চলছে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর লকডাউন। সরকারি নির্দেশনা কার্যকরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী চালাচ্ছে মাঠে অভিযান। তারপরও অনেকে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে ব্যবসা করছে। 

বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলা সদরের হাজিগঞ্জ বাজারের এক মাছ বিক্রেতা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ দেখেই মাছ ফেলে সটকে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তিনি ফিরে না আসায় ম্যাজিস্ট্রেট মালিকবিহীন ১০৩ কেজি মাছ জব্দ করেন। আর এতেই ভাগ্য খুলে যায় ৩টি মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের। তাদের মাছগুলো দিয়ে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা। তিনি বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মালিক না পাওয়ায় আইন অনুযায়ী তিনি ১০৩ কেজি মাছ জব্দ করা হয়। পরে জনসমক্ষে উপজেলার তিনটি এতিমখানায় তা প্রদান করা হয়।

বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হল ভ্রাম্যমান কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিবন্ধন সেবা

করোনা মাহামারীর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার যোষিত বিধি-নিষেধ চলাকালে বিদেশগামী কর্মীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিবন্ধন কার্যক্রম আরও নিরাপদ ও সহজতর করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন বড়লেখার উদ্যোগে ভ্রাম্যমান কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিবন্ধন সেবা চালু হলো।

বড়লেখা মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা। এখান থেকে উপজেলা সদরে দূরত্ব প্রায় ৭০ কি:মি:। দশটি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভার নিয়ে বড়লেখা গঠিত। প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা। USA, UK, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সকল দেশে কর্মরত এ উপজেলার মানুষ। করোনা ভাইরাস (কোভিড -১৯) জনিত পরিস্থিতির কারনে ছুটিতে বিদেশ হইতে আগত ও বিদেশে গমনেচ্ছুক মর্মীদের ভ্যাকসিন দেয়া প্রয়োজন। দেশব্যাপী বিদেশগামী কর্মিদের চাহিদা বিবেচনা করে তাদের কর্মস্থলে যাওয়া নিরাপদ ও ঝুকিমুক্ত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বর্তমান সরকার কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন প্রাপ্তির জন্য নিবন্ধন সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। সে মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে হাজির হয়ে নির্ধারিত ও নিজ জেলার সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকাল ৪:০০ টা পর্যন্ত অথবা অনলাইনে আমি অ্যাপস এ নিবন্ধন করা যাবে। কোভিড-১৯ টীকা প্রদান ও সনদায়ন কার্যক্রম সম্পুর্ন ডিজিটালাইজড। লকডাউনের মধ্যে উপজেলা থেকে ৭০ কি:মি: দূরে জেলা সদরে গিয়ে ভ্যাকসিন প্রদানের লক্ষ্যে নিবন্ধন করা অত্যন্ত কষ্টকর। এ কষ্ট লাঘবের জন্য মৌলভীবাজারের মান্যবর জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক আমি ইউডিসি’র কয়েকজন দক্ষ উদ্যোক্তাকে মৌলভীবাজার জেলার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সাথে ঝুম প্ল্যাটফর্মে ১ঘন্টার প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করি। এ পর্যায়ে আমরা একটি মাইক্রোবাস, ৩ জন ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার, প্রয়োজনীয় সংখ্যাক ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ সহ একটি সার্ভিস টীম তৈরী করেছি। এ টীমের কার্যক্রম আমি নিজে সার্বক্ষনিক মনিটর করবো।

সিলেটে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসা ২৮ প্রবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসা ২৮ প্রবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। দেশে ফেরার পর কোয়ারেন্টিনে রেখে নমুনা পরীক্ষায় তারা করোনা পজিটিভ প্রমাণিত হন। তাদেরকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে জানান, গত ২১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট নং বিজি-২০২’তে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে আসেন ১৫৭ প্রবাসী। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে বিভিন্ন হোটেলে রাখা হয়। নিয়ম অনুসারে, তাদের ৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পর নমুনা পরীক্ষায় করার নিয়ম রয়েছে। এ হিসেবে সোমবার তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে ছেড়ে দিতে রোববার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করানো হয়। এতে ২৮ জন করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন বলেও জানান তিনি। 

করোনাক্রান্ত এসব যাত্রীদের ১৫ জন হোটেল নূরজাহানে, ৫ জন হোটেল ব্রিটানিয়ায়, ৪ জন হোটেল হলিগেইটে, ৩ জন হোটেল লা রোজে এবং একজন হোটেল হলি সাইডে অবস্থান করছিলেন। করোনা ভাইরাসের পরীক্ষায় এসব যাত্রী পজিটিভ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে সিলেটের খাদিমপাড়াস্থ ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

দেশে কোন গৃহহীন থাকবে; বড়লেখায় পরিবেশ মন্ত্রী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন

মোঃইবাদুর রহমান জাকির

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো মানুষই আর গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের গৃহহীনদের জন্য গৃহের ব্যবস্থা করছে।

রোববার মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নির্মাণাধীন ৫০টি পাকাঘর পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসজনিত মহামারিকালে সমগ্র বিশ্ব বিপর্যস্ত হলেও বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম থেমে থাকেনি। এ সময় পরিবেশমন্ত্রী অসহায়, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পাশে সমাজের বিত্তবান মানুষদের দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

গৃহ নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের ডিসি নাহিদ আহসান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোয়েব আহমদ, বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মোবাইল ০১৭৬১৫৭৫৪৫৭

Design a site like this with WordPress.com
Get started