করোনায় মারা গেলেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ

সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ বুধবার দুপুর সোয়া একটায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।

হেফাজতে ইসলামমৌলভীবাজার জেলা কমিটি গঠিত।

আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের
মৌলভীবাজার জেলা পুনর্গঠন
আমীরঃ মাওলানা গিয়াস উদ্দিন

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলা কাউন্সিল আজ ১ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে শেখবাড়ী মাদরাসা হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা শাব্বির আহমদ ও মাওলানা জিয়া উদ্দিন ইউসুফের যৌথ পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমীরে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ শায়খুল হাদীস মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী।
অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল বারী ধর্মপুরি,শায়খুল হাদীস আল্লামা ওলিউর রহমান বর্ণভী, নাযিমে আ’লা (মহাসচিব) অধ্যাপক মাওলানা আব্দুস সবুর,শায়খুল হাদীস মুফতি শামসুজ্জোহা, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা খায়রুল ইসলাম, মাওলানা রশিদ আহমদ হামিদী, মাওলানা আহমদ আফজাল বর্ণভী,মাওলানা সা’দ আমীন বর্ণভী প্রমুখ।

কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে মাওলানা গিয়াস উদ্দিন রায়পুরিকে আমীর (সভাপতি) ও মাওলানা হাবিবুর রহমান শামিম রাজনগরীকে নাযিম (সেক্রেটারি) মনোনীত করে ৫৫সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয় ।

এসএসসিতে জুড়ি উপজেলার সবার সেরা শিমলা

এসএসসি পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী মৌলভীবাজারের জুড়ীতে শীর্ষ স্থান দখল করেছে সাবিহা ইসলাম শিমলা। বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী শিমলা উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৩৬ নম্বর পেয়েছে।

জুড়ী উপজেলা সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের বেলাগাঁও (পূর্বপার) গ্রামের বাসিন্দা সাবিহা ইসলাম শিমলার এ অর্জনে আনন্দিত তার বাবা কামিনীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী রফিক মিয়া বলেন, ‘আমার দুুই মেয়ের মধ্যে শিমলা বড়। সে ছোট কাল থেকেই লেখাপড়ায় খুবই আগ্রহী এবং তার প্রচন্ড আগ্রহ সে ডাক্তার হবে। তার আগ্রহে বাবা হিসেবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দসহ সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তার আশা পুরণ করেন’।

এক প্রতিক্রিয়ায় মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসহাক আলী বলেন, আমার বিদ্যালয়ে এবার তিনটি জিপিএ ৫ এসেছে। এর মধ্যে শিমলা উপজেলায় সবার সেরা হয়েছে। বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সমস্যা বিরাজমান। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আলাদা সেকশন করা যাচ্ছে না। প্রতি ক্লাসে ১৫০/১৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস করতে হয়। তারপরেও আমরা শিক্ষকরা লেখাপড়ার গুণগত মান উন্নয়ন ও ভালো ফলাফলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

দক্ষিণভাগে ঘাতকের হাতে খুন হওয়া জাকারিয়া জিপিএ ৪ পেয়েছে।

রাত তখন এগারোটার কিছুক্ষণ পার হয়েছে।নিউজ ডেস্কে কাজ করছি।হঠাৎ বড়লেখার ডাক’র বার্তা সম্পাদক তারেক ভাইয়ের ফোন।আশফাক একটা এক্সক্লুসিভ নিউজ আছে।তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম কি নিউজ। তিনি জানালেন দক্ষিনভাগে ৮৫ টাকার জন্য এসএসসি ফলপ্রার্থী এক কি’শোরকে খু’ন করা হয়েছে।খবরটা শুনে আতকে উঠলাম।মুহুর্তেই শরীরের সবকটি পশম দাঁড়িয়ে গেলো।কি জগন্য ঘটনা।তারেক ভাইয়ের ফোনের মধ্যেই আমা’র সম্পাদক তোফায়েল ভাইয়ের টেক্সট। আশফাক বড়লেখায় একটা খু’ন হয়েছে খবর পেয়েছো।বললাম হ্যাঁ ভাই পেয়েছি।তিনি বললেন আমি ব্রেকিং দিয়ে দিয়েছি তুমি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করো।তারপর খবর নিতে শুরু করলাম।ঘন্টা খানেকের ভিতরে বিস্তারিত পেয়ে গেলাম।কি লোমহর্ষক ঘটনা।মাত্র ৮৫ টাকা চাইতে গিয়ে খু’ন হয় কি’শোর জাকারিয়া।

জানতে পারি সে উপজে’লার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির আরেঙ্গাবাদ গ্রামের সালাহ উদ্দিনের ছে’লে।সালাহ উদ্দিন তার বাড়ির পাশে টং দোকানে পান, সিগারেট ও কাঁচামালের ব্যবসা করেন। ২১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ছে’লে এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী জাকারিয়া হোসেন (১৮) দোকানদারী করছিল। প্রতিবেশি তোতা মিয়া বাড়ি থেকে টাকা এনে দিচ্ছেন বলে ডারবি সিগারেটসহ ৮৫ টাকার মালামাল ক্রয় করেন। বিকেল পর্যন্ত অ’পেক্ষা করেও তোতা মিয়া পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি। রাত ৮টার দিকে জাকারিয়া হোসেন দোকানের পাওনা টাকা চাইতে তোতা মিয়ার বাড়িতে যায়। তিনি টাকা নেই বলে তাকে বিদায় করার চেষ্টা করেন। কিন্ত জাকারিয়া হোসেন টাকা না দিলে তার বাবা তাকে বকাঝকা করবেন জানিয়ে বারবার অনুনয় বিনয় করে। এসময় তোতা মিয়ার ছে’লে প্রবাস ফেরত আজিম উদ্দিন (৩৫) তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সে জাকারিয়া হোসেনকে উপুর্যুপরি চু’রিকাঘাত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে জুড়ী উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

মাত্র ৮৫ টাকার জন্য খু’ন হয়ে গেলো দুরন্ত এক কি’শোর।আর অকালেই ঝরে গেলো একটি তা’জা প্রা’ণ এবং দেশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র, যে নক্ষত্রটি এই দেশকে ভবিষ্যতে দিতে পারত অনেক কিছুই।যার সামনে ছিলো একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেই ঘা’তক তার ভবিষ্যতকে ২১ মে রাত ৮ টায় থামিয়ে দিলো।ঘা’তক আজিম উদ্দিন সুধু জাকারিয়াকে হ’ত্যা করেনি সে হ’ত্যা করেছে জাতির এক সম্ভাবনাকে।হাজারো স্বপ্ন বুকে নিয়ে জাকারিয়া এসএসসি পরিক্ষা দিয়েছিলো।লেখাপড়া করে বাবা-মা’র স্বপ্ন পূরন করবে।কিন্তু তার সে স্বপ্ন পূরনের আগেই সেই ঘা’তক নিভিয়ে দিলো তার জীবন প্রদীপ।

জাকারিয়ার স্বপ্ন ছিলো উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে একজন ডাক্তার হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করবে। সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ঘা’তকের হাতে শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপ পার না হতে অকালেই ঝরে গেলো তার প্রা’ণ। সেই সাথে মা-বাবার বুক খালি করে ঘা’তক কেড়ে নিলো তাদের অনাগত স্বপ্নকে।

ছোটবেলা থেকেই জাকারিয়া অ’ত্যন্ত মেধাবী হিসেবে বেড়ে উঠছিলো। পড়াশুনার দিক থেকে যেরকম তুখোড় মননের অধিকারী ছিলো, পরহেজগারিতা ও সচ্চরিত্রের দিক থেকেও অ’ত্যন্ত সচেতন ও সৎ ছিলো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো সে।কেউ জাকারিয়াকে কখনো উচ্চ স্বরে কারো সাথে কথা বলতেও দেখেনি।পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে জাকারিয়া ছিলো সবার বড় ও আদরের। তাদের গ্রামে জাকারিয়ার পড়াশুনা ও চরিত্র নিয়ে সকলে প্রশংসায় ভাসতেন। দক্ষিণভাগ মেরিট কেয়ার একাডেমি থেকে পিএসসিতে জিপিএ ৫ ও দক্ষিনভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি তে জিপিএ ৪ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ন হয়েছিলো জাকারিয়া।এরপর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নবম শ্রেনীতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয় সে।বুকের মধ্যে সেই লালিত স্বপ্ন নিয়ে জাকারিয়া এগুচ্ছিলো।চলতি বছরের সে এসএসসি পরিক্ষা দেয়।খুবই ভালো পরিক্ষা হয়।একটা ভালো ফলাফলের অ’পেক্ষায় দিনগুনছিলো সে।কিন্তু ফল পাওয়ার আগেই তার প্রা’ণ কেড়ে নিলো ঘা’তক।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে জাকারিয়াকে চিনি না বা কোনদিন দেখিও নি।কিন্তু তার জন্য বড্ড মায়া হচ্ছে। মায়া হচ্ছে এই ভেবে যে বড়লেখা হারালো তার এক সম্ভাবনাময় কি’শোরকে।হয়তো কোন একদিন জাকারিয়া একজন বিশ্বমানের ডাক্তার হতো।তখন বিশ্বময় তার নাম ছড়িয়ে পড়তো। সারা দেশের মানুষ বলতো ছে’লেটি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজে’লার।তখন সবার মতো গর্বে আমা’র বুকটাও ভরে আসতো।বুক উচিয়ে বলতে পারতাম ছে’লেটি আমা’র বড়লেখার।কিন্তু সে সম্ভাবনাকে ছু’রিকাঘাতে হ’ত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে ঘা’তক আজিম উদ্দিন পলাতক। তাকে গ্রে’ফতারে হন্য হয়ে খুঁজছে পু’লিশ।কিন্তু ঘটনার ১০ দিন পার হলেও তাকে গ্রে’ফতার করা সম্ভব হয়নি।এদিকে সন্তানকে হারিয়ে চোখের জল ফেলছেন তার বাবা-মা।
সন্তানকে হা’রানোর ব্যতা ভুলতে পারছেন না তারা।এটা ভুলা সম্ভবও নয়।কারণ কোন বাবা-মাই তার সন্তানের এমন চলে যাওয়া মেনে নিতে পারে না।কিছুদিন পর হয়তো গ্রামবাসী, উপজে’লার সবাই ভুলে যাবে কিন্তু বাবা-মা ভুলতে পারবে! না তারা কখনোই ভুলতে পারবে না।সন্তানকে হা’রানোর পীড়া তাদেরকে সারা জীবন ক’ষ্ট দেবে।

জাকারিয়ায় খু’নের আজ ১০ দিন পা হয়েছে।সে ছিলো এসএসসি ফলপ্রার্থী। একটা ভালো ফলাফলের স্বপ্ন নিয়ে সে পরিক্ষা দিয়েছিলো।আজ তার পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে।সে পাশ করেছে।সুধু পাশ নয় অনেক ভালো একটা ফল পেয়েছে সে।জিপিএ ৪ পেয়েছে।কিন্তু সেই ফল সে জেনে যেতে পারলো না।ফলাফল প্রকাশের ১০ দিন আগেই সে চলে গেলো।আজ তার রেজাল্ট হাতে নিয়ে তার বাবা-মা কাঁদছে।ভাই বোনেরা অজস্রে চোখের জল ফেলছে।আর জাকারিয়া উপরে বসে হয়তো সে তার রেজাল্ট দেখছে আর বলছে আমা’র কি দোষ ছিলো যার জন্য আমাকে তোম’রা মে’রে ফেললে। আমা’র দশ বছরের ক’ষ্টের ফসল তোম’রা আমা’র হাতে পেতে দিলে না।তোমাদের আমি ক্ষমা করবো না।

জাকারিয়ার ফল হাতে নিয়ে এই ফিচারটা রেডি করছি।একটা এক্সক্লুসিভ ফিচার হবে।সাইটে যাওয়ার পর পাবলিক খুব খাবে।অনেকেই ফিচারের লিংক শেয়ার করে ভালো ভালো কথা লিখবে। কিন্তু এই ফিচারটা যখন তার বাবা-মায়ের চুখে পড়বে তখন তারা ক’ষ্টে বুক ধ’রাতে পারবেন না।ফিচারটা লিখতেও আমা’র হাত কাঁপছে।কাঁপা কাঁপা হাতে ল্যাপটপের কিবোর্ড চাপছি।সেদিনও একইভাবে কাঁপা কাঁপা হাতে তার খু’ন হওয়ার সংবাদটা লিখেছিলাম।আম’রাই প্রথম কোন মিডিয়ায় এই খু’নের ব্রেকিং করেছিলাম।নিউজটা খুব চলেছিলো।কিন্ত আমি আর চাই না এমন এক্সক্লুসিভ নিউজ ছাপতে।যে এক্সক্লুসিভ হয় কোন এক সম্ভাবনার খু’নের এক্সক্লুসিভ।

বড়লেখায় বাবার লাশ ঘরে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেয়া রায়হান জিপিএ ৪.২৫ পেয়েছে

বড়লেখায় বাবার লাশ বাড়িতে রেখে দাখিল পরীক্ষায় অংশনেয়া রায়হান আহমদ জিপিএ ৪.২৫ পেয়েছে। রায়হান আহমদ তার বাবার লাশ বাড়িতে রেখেই ভেজা চোখে মাদ্রাসা বোর্ডের আধিনে দাখিল পরীক্ষায় গাংকুল মাদ্রাসা থেকে বড়লেখা মোহাম্মদীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা কেন্দ্রে ইংরেজী ২য় পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।আজ প্রকাশিত দাখিল পরিক্ষায় সে ৪.২৫পেয়ে উর্ত্তিন হয়েছে। সে উপজেলার দক্ষিণভাগ (উত্তর) ইউনিয়নের রুকনপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের কনিষ্ঠ সন্তান।গত (১৫ ফ্রেরুয়ারী) শুক্রবার দিবাগত রাতে তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।পরের দিন শনিবার বেলা আড়াইটায় তাঁর জানাজা নির্ধারিত হয়। এদিকে শনিবার আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে রাহয়ান আহমদের দাখিল পরীক্ষা ছিল। এই অবস্থায় রাহয়ান আহমদ চলমান দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেবে কি-না সে বিষয়ে স্বজনেরা দোটানায় পড়েছিলেন। তবে রাহয়ান পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাবাকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষা দিতে যায় রাহয়ান।পরে অবশ্য পরীক্ষা দিয়ে সে তার বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছিল।রাহয়ান আহমদ জানায়, বাবা তাকে খুব ভালোবাসতেন। বাবা চাইতেন, আমি যেন পড়ালেখা করে মানুষের মত মানুষ হই। বাবার লাশ ঘরে রেখেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম।আজ বাবা নেই অাশা কিছুটা হলেও পুর্ন হয়েছে। আমি যেনো বাবার আশাকে পুর্নতা দিতে পারি সবাই অামার জন্য দোয়া করবেন। 

বড়লেখার দাসের বাজারে ৩’শ দরিদ্র পরিবারকে অর্থসহায়তা দিল বৃহত্তর লঘাটি যুব সংঘ

ক‌রোনা প‌রি‌স্থি‌তিতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজার ইউনিয়নের অসহায় কর্মহীন দরিদ্র প‌রিবা‌রের মা‌ঝে নগদ অর্থ বিতরণ ক‌রে‌ছে দাসেরবাজার ইউনিয়নের সামা‌জিক সংগঠন বৃহত্তর লঘাটি যুব সংঘ।

সোমবার (৪ এপ্রিল) সংগঠনটির উদ্যোগে প্রবাসীদের অর্থায়নে ইউপির দরিদ্র তিন শত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থসহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাসের বাজার ইউনিয়নের বৃহত্তর লঘাটি যুব সংঘ ২০১৪ সালে প্রতিস্ঠার পরথেকে দেশে ভিবিন্ন দুর্যোগ কালিন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে সংগঠনটি। করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অসহায় হয়েপড়া দরিদ্র তিনশত পরিবার মাঝে নগদ অর্থ দিয়ে সহয়োগিতা করেছে এ সংগঠন।

বিতরণ কার্যক্রম উপলক্ষে সোমবার সকাল ১১ ঘটিকায় লঘাটি শাহখাজা (র.) মসজিদ প্রাঙ্গনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও করোনা থেকে মুক্তি এবং প্রবাসীদের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়।

এসময় বৃহত্তর লঘাটি যুব সংঘের উপদেষ্টা মো. মুমিন আলী, মো. মনির উদ্দিন,মো. আকমল আলী, মো. নুরুল ইসলাম (নুরই) আব্দুর রহমান ও কার্যকারী কমিটির সভাপতি মো.সাহাজান সিরাজ,সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম লাল,মো. তিয়াহাম আহমদ চৌধুরী,মো.জিয়াউর রহমান,মো.রপিক উদ্দিন,সাধারণ সম্পাদক মো.মস্তফা উদ্দিন,সহ-সাধারণ সম্পাদক মো.মিজানুর রহমান,অর্থ সম্পাদক খায়রুল আলম শিমুল, প্রচার সম্পাদক মিশকাত আহমদ,আলবাব আহমদ, নির্বাহী সদস্য মো.রুহেল আহমদ,মো.ফখরুল ইসলাম,মাতাব উদ্দিন,আব্দুল মুকিত,সদস্য মো.নুরুল হক (রুনু), মাওঃ সাইফুর রহমান,মো. আছার উদ্দিন প্রমুখ ছিলেন।

জুড়ী সাগরনালে করোনা উপসর্গ নিয়ে যুবকের মৃত্যু: এলাকা লকডাউন

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল এলাকায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অসীম চন্দ্র বনিক আজ সোমবার সকালে জানান, খবর পেয়ে নমুনা সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসলে নিশ্চিত হওয়া যাবে তিনি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত ছিলেন কিনা ।
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকাবাসী যাতে বাইরে যেতে না পারেন সেজন্য এলাকা লকডাউন করা হয়েছে।’

সিলেটে একদিনে ১০ জনের করোনা শনাক্ত

সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ল্যাবে একদিনে ১০ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের সবার বাড়ীই হবিগঞ্জ জেলায়।

সোমবার এদের শরীরে করোনা সনাক্ত হয় বলে রাতে জানিয়েছেন হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একে এম মোস্তাফিজুর রহমান।

আক্রান্তদের মধ্যে লাখাই উপজেলার ৩ জন, বানিয়াচংয়ের ৩, বাহুবলের ১ জন, আজমিরীগঞ্জ ২ জন ও চুনারুঘাট ১ জন বলে জানান তিনি। আক্রান্তদের ৮জন পুরুষ ও দুইজন নারী। সোমবার ওসামনী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পরীক্ষায় এই ১০ জন সনাক্ত হন জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, আক্রান্তদের এলাকা লকডাউনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরআগে সিলেট বিভাগের কোথাও এতো সংখ্যক করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হননি। রোববার পর্যন্ত সিলেট বিভাগের ৪ জেলা মিলে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো ৮। তবে সোমবার একদিনেই বিভাগের মোট আক্রান্তের সংখ্যাকে ছাপিয়ে যায় হবিগঞ্জ।

যদিও হবিগঞ্জে ১০ জন আক্রান্তের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাননি বলে সোমবার রাতে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান।

সোনালি ব্যাংক কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত, বন্ধ মতিঝিল শাখা

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার পর ফলাফল পজেটিভ এসেছে সোনালী বাংকের এক কর্মকর্তার।

তিনি রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের শিল্প ভবন কর্পোরেট শাখায় কর্মরত ছিলেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্যটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকটি।

তাছাড়া ব্যাংকের শিল্প ভবন কর্পোরেট শাখা সোমবার থেকে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে আগামী মঙ্গলবার থেকে উক্ত শাখার গ্রাহকদের পার্শ্ববর্তী দিলকুশা করপোরেট শাখা থেকে লেনদেনসহ জরুরি সেবা গ্রহণের অনুরোধ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এর আগে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখার এক কর্মকর্তার করোনার সন্দেহে ওই শাখাটি লকডাউন করা হয়। পরে পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ এলে লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর বাইরে ব্যাংক এশিয়া ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শাখাও বন্ধ হয়েছে। বেশ কয়েকজ ব্যাংকারের করোনার আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইনে বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানিয়েছে মরণঘাতী এ ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে একশ ছাড়িয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। ফলে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ১০১ জনে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৯২ জনের দেহে। এ নিয়ে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৯৪৮ জনে।

বড়লেখায় লকডাউন আইন না মানায় ১৮ জনকে জরিমানা

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কোনো কারণ ছাড়াই হাটবাজারে ঘোরাফেরা ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ১৮ ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।  

বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথভাবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পৌরসভা, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর বাজার, বড়লেখা সদর ইউনিয়নের বিছরাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়। আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান। 

এসময় বড়লেখা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক ও থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) প্রভাকর রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে প্রতিদিন প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে জনসাধারণকে অকারণে হাটবাজারে ঘোরাফেরা না করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। এরপরও মানুষ নিষেধাজ্ঞা না মেনে কোনো কারণ ছাড়াই হাটবাজারে ঘোরাফেরা করছিল। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিকেল ৫টার পরে ওষুধ ছাড়া অন্য দোকানগুলো বন্ধ করার কথা। কিন্তু এ বাজারগুলোতে অনেক রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে কেনাকাটা ও অকারণে ঘোরাফেরা করেন অনেকে। 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এইসময় কোনো কারণ ছাড়া হাটবাজার ও সড়কে ঘোরাফেরা করার কারণে ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় পৌরসভা, মোহাম্মদনগর, বিছরাবাজারে ১৮ ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডিতরা সকলে নিষেধাজ্ঞা অম্যান্য করে হাটবাজারে ও সড়কে ঘোরাফেরা করছিলেন। কয়েকজন সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দোকান খুলেন। এজন্য তাদেরও জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ‘সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অযথা বাইরে ঘোরাঘুরি এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নির্দিষ্ট সময়ের পরও দোকান খোলা রাখায় তাদের জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৮টি মামলায় ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।’ 

Design a site like this with WordPress.com
Get started